ছবি থেকে যায়. কিছু ছবি খুব গভীরভাবে থেকে যায়, মনে. অনেক দূরের ছবি, সময়ের দূরত্ব। যেন দূরবীন দিয়ে দেখা. মাঝখানটা স্পষ্ট, পাশটা তত নয়. সালটা ১৯৭১ বা ৭২. ইতিহাস ঘাঁটলেই পাওয়া যাবে, কিন্তু ঘাঁটব না. আজ শুধু স্মৃতি ঘাঁটব।
নারকেলের মালা দিয়ে বানানো দাঁড়িপাল্লা. দু-পাশে দুটো, সুতো দিয়ে ঝুলছে একটা কাঠির দু প্রান্ত থেকে. কাঠির মাঝে আরেকটা ছোট সুতো, ধরে থাকার জন্য. যেমন দোকানিরা করে. একটাতে মাটি, অন্যটাতে কি ছিল আজ আর মনে নেই. আমরা ছোটরা এই নিয়ে খেলছি বাগানে. মা, বাবা, দুই জ্যাঠামশাই ও জ্যেঠিমা বললেন, তোমরা এখানেই খেলা কর, আমরা ভোট দিয়ে আসছি. আমরা বিশেষ হেলে-দুলে বসেছিলাম বলে মনে পড়ে না. বরঞ্চ খুশি হয়েছিলাম কিছুক্ষণ আমাদের তদারকি করার কেউ থাকছে না বলে.
খেলা চলছে. দাঁড়িপাল্লা balance করার প্রচেষ্টা চলছে. কিন্তু সে সময়ে সমাজের, রাজনীতির balance ছিল না বিশেষ. ওই বয়সে সময়ের অঙ্কের হিসাব থাকে না. সকাল, দুপুর, বিকেল-সন্ধ্যা আর রাতের হিসাব থাকত শুধু. সে সময়ে বোধহয় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে. কিছু পরে ফিরে এলেন সকলে. ভোট দেওয়া যায় নি. ভোট পড়ে গেছিল ওঁদের নামে ততক্ষণে. গেল না, কেন গেল না এই প্রশ্ন আমাদের মনে দাগ কাটেনি ওই বয়সে, স্বাভাবিকভাবেই. কিন্তু ছবিটা, ওঁদের রাগ এবং দুঃখটা, সেই অসক্ত ক্রোধের ছবিটা থেকে গেছিল মনে, গভীরে কোথাও।
প. বাংলার সাম্প্রতিক পুরভোট, ঘটনাবলী, সন্ত্রাস, সাধারণ মানুষের ভোট দিতে না পারা, মনে পড়িয়ে দিল অনেক দূরের সেই দিনটার স্মৃতি. মানুষের অগ্রগতি কি তবে বৃত্তাকার?
No comments:
Post a Comment